Blood

রক্ত (Blood) — মাস্টার গাইড | WBCS | SSC | UPSC
WBCS · SSC CGL · UPSC · RRB · PSC

রক্ত (Blood)

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য সম্পূর্ণ স্টাডি মেটেরিয়াল

তরল যোজক কলারক্ত এক প্রকার Fluid Connective Tissue (মেসোডার্ম থেকে উৎপন্ন)।
৭.৪ (ঈষৎ ক্ষারীয়)রক্তের স্বাভাবিক pH মাত্রা (৭.৩৫ - ৭.৪৫)।
৫-৬ লিটারস্বাভাবিক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে রক্তের পরিমাণ (দেহের ওজনের ৭-৮%)।
হিমাটোলজি (Hematology)রক্ত সম্পর্কিত বিজ্ঞান বা বিদ্যাকে বলা হয়।
৩৮°C (100.4°F)মানুষের রক্তের স্বাভাবিক তাপমাত্রা।
🩸 রক্তের প্রধান উপাদান (Components of Blood)

রক্ত প্রধানত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত: তরল অংশ যাকে রক্তরস বা প্লাজমা (Plasma - 55%) বলে এবং কঠিন অংশ যাকে রক্তকণিকা (Blood Corpuscles - 45%) বলে।

রক্তরস (Plasma - 55%)

  • উপাদান: ৯১-৯২% জল এবং ৮-৯% কঠিন পদার্থ (প্রোটিন, গ্লুকোজ, লবণ)।
  • প্লাজমা প্রোটিন: অ্যালবুমিন (অসমোটিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করে), গ্লোবিউলিন (অ্যান্টিবডি তৈরি করে), ফাইব্রিনোজেন এবং প্রথম্বিন (রক্ত তঞ্চনে সাহায্য করে)।
  • সিরাম (Serum): রক্ত জমাট বাঁধার পর যে হালকা হলুদ তরল বেরিয়ে আসে। (সিরাম = প্লাজমা - ফাইব্রিনোজেন)। সিরামে রক্ত তঞ্চনের উপাদান থাকে না।
  • কাজ: পুষ্টিদ্রব্য, হরমোন, উৎসেচক এবং রেচন পদার্থ পরিবহন করা।

রক্তকণিকা (Formed Elements - 45%)

  • রক্তকণিকা তিন প্রকার: লোহিত রক্তকণিকা (RBC), শ্বেত রক্তকণিকা (WBC) এবং অণুচক্রিকা (Platelets)।
  • হিমোপয়েসিস (Hemopoiesis): রক্তকণিকা সৃষ্টির প্রক্রিয়া। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি লাল অস্থিমজ্জায় (Red Bone Marrow) ঘটে।
  • ভ্রূণ অবস্থায় রক্তকণিকা উৎপন্ন হয় যকৃৎ (Liver) এবং প্লীহা (Spleen) থেকে।
🔬 রক্তকণিকার বিস্তারিত বিশ্লেষণ (Blood Cells)
বৈশিষ্ট্য লোহিত রক্তকণিকা (RBC / Erythrocytes) শ্বেত রক্তকণিকা (WBC / Leukocytes) অণুচক্রিকা (Platelets / Thrombocytes)
আকৃতি উভয়দিক অবতল (Biconcave), নিউক্লিয়াস বিহীন (স্তন্যপায়ী)। ব্যতিক্রম: উট ও লামার RBC তে নিউক্লিয়াস থাকে। অনিয়মিত, নির্দিষ্ট আকার নেই। নিউক্লিয়াস যুক্ত। গোলাকার বা ডিম্বাকার, নিউক্লিয়াস বিহীন।
স্বাভাবিক সংখ্যা পুরুষে ৫-৫.৫ মিলিয়ন/mm³, মহিলায় ৪.৫-৫ মিলিয়ন/mm³ ৪০০০ - ৮০০০ / mm³ ১.৫ লক্ষ - ৩.৫ লক্ষ / mm³
আয়ুষ্কাল ১২০ দিন। কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েক দিন (২-১৫ দিন)। ৩ - ১০ দিন।
উৎপত্তিস্থল লাল অস্থিমজ্জা (Red Bone Marrow)। অস্থিমজ্জা, প্লীহা ও লিম্ফ নোড। অস্থিমজ্জার মেগাক্যারিওসাইট (Megakaryocyte) কোষ থেকে।
ধ্বংসস্থান প্লীহা (Spleen) - তাই প্লীহাকে RBC-এর গোরস্থান (Graveyard) এবং ব্লাড ব্যাঙ্ক বলা হয়। রক্তেই ধ্বংস হয় এবং লিভার/প্লীহায় অপসারিত হয়। প্লীহা (Spleen) এবং যকৃতে ধ্বংস হয়।
প্রধান কাজ হিমোগ্লোবিনের মাধ্যমে কোষে O₂ পরিবহন এবং CO₂ অপসারণ। ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে জীবাণু ধ্বংস ও ইমিউনিটি প্রদান। (দেহের প্রহরী) রক্ত তঞ্চনে (Blood Clotting) সাহায্য করা। ডেঙ্গু জ্বরে এদের সংখ্যা মারাত্মক কমে যায়।
🛡️ শ্বেত রক্তকণিকার প্রকারভেদ (Types of WBC)

গ্রানুলোসাইট (দানাদার)

  • নিউট্রোফিল (Neutrophil): সবচেয়ে বেশি থাকে (৬০-৭০%)। ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে জীবাণু ভক্ষণ করে।
  • ইওসিনোফিল (Eosinophil): অ্যালার্জি প্রতিরোধ করে এবং পরজীবী ধ্বংস করে।
  • বেসোফিল (Basophil): সবচেয়ে কম থাকে (০.৫-১%)। হেপারিন (Heparin) নিঃসরণ করে যা রক্তনালীর ভেতর রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। এছাড়া হিস্টামিন নিঃসরণ করে।

অ্যাগ্রানুলোসাইট (অদানাদার)

  • লিম্ফোসাইট (Lymphocyte): সবচেয়ে ছোট WBC। অ্যান্টিবডি তৈরি করে অনাক্রম্যতা (Immunity) প্রদান করে। HIV ভাইরাস T-লিম্ফোসাইটকে ধ্বংস করে দেয়।
  • মনোসাইট (Monocyte): সবচেয়ে বড় WBC। এরাও ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে জীবাণু ধ্বংস করে (ম্যাক্রোফাজ হিসেবে কাজ করে)।
🩸 রক্ত তঞ্চন (Blood Coagulation)

কেটে যাওয়া স্থানে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াকে তঞ্চন বলে। স্বাভাবিক সময়: ৩-৮ মিনিট।

  • জরুরি ভিটামিন: ভিটামিন K
  • জরুরি খনিজ/আয়ন: ক্যালসিয়াম (Ca²⁺)
  • প্রধান প্লাজমা প্রোটিন: ফাইব্রিনোজেন ও প্রথম্বিন
  • প্রক্রিয়া: থ্রম্বোপ্লাস্টিন + Ca²⁺ + প্রথম্বিন ➔ থ্রম্বিন।
    থ্রম্বিন + ফাইব্রিনোজেন ➔ ফাইব্রিন (জ্বালকের মতো অংশ যা রক্তকণিকা আটকে দেয়)।
  • অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট (Anticoagulant): কৃত্রিম (ব্লাড ব্যাঙ্কে ব্যবহৃত) - সোডিয়াম সাইট্রেট, EDTA. প্রাকৃতিক - হেপারিন, হিরুডিন (জোঁকের লালায়)।
🅰️ রক্তের গ্রুপ (ABO System)

আবিষ্কারক: কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার (Karl Landsteiner - 1900)। রক্তের গ্রুপ নির্ধারিত হয় RBC-র গায়ে থাকা অ্যান্টিজেনের (A, B) ওপর ভিত্তি করে।

গ্রুপ অ্যান্টিজেন (RBC) অ্যান্টিবডি (প্লাজমা) কাকে দান করতে পারে?
AAAnti-BA, AB
BBAnti-AB, AB
ABA এবং Bনেইশুধুমাত্র AB (Universal Acceptor)
OনেইAnti-A এবং Anti-Bসবাইকে (Universal Donor)

* O নেগেটিভ (O-) হলো প্রকৃত সার্বজনীন দাতা এবং AB পজিটিভ (AB+) প্রকৃত সার্বজনীন গ্রহীতা।

* Rh Factor: ল্যান্ডস্টেইনার ও উইনার রিসাস (Rhesus) বানরের রক্তে এটি আবিষ্কার করেন। Rh+ পুরুষ এবং Rh- মহিলার বিয়ে হলে দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে Erythroblastosis Fetalis নামক মারাত্মক রোগ হতে পারে।

🏆 Top 50 One-Liner Q&A (Exam Express)

যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার (UPSC, WBCS, CGL) আগে এই ৫০টি প্রশ্ন ঝালিয়ে নিন।

১. রক্তের বিজ্ঞানসম্মত অধ্যয়নকে কী বলা হয়?
হিমাটোলজি (Hematology)
২. মানুষের রক্তের স্বাভাবিক pH মাত্রা কত?
৭.৪ (ঈষৎ ক্ষারীয়)
৩. মানবদেহে রক্তের পরিমাণ মোট ওজনের কত শতাংশ?
প্রায় ৭-৮% (৫-৬ লিটার)
৪. রক্ত উৎপন্নের প্রক্রিয়াকে কী বলে?
হিমোপয়েসিস (Hemopoiesis)
৫. প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে RBC কোথায় তৈরি হয়?
লাল অস্থিমজ্জা (Red Bone Marrow)
৬. ভ্রূণ অবস্থায় RBC কোথায় তৈরি হয়?
যকৃৎ (Liver) এবং প্লীহা (Spleen)
৭. 'RBC-এর গোরস্থান' বা Graveyard কাকে বলা হয়?
প্লীহা বা Spleen
৮. মানবদেহের 'ব্লাড ব্যাঙ্ক' (Blood Bank) কাকে বলে?
প্লীহা (Spleen)
৯. RBC-এর গড় আয়ু কত দিন?
১২০ দিন
১০. কোন স্তন্যপায়ী প্রাণীর RBC-তে নিউক্লিয়াস থাকে?
উট ও লামা
১১. রক্তের লাল রঙের জন্য দায়ী কোন রঞ্জক?
হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin)
১২. হিমোগ্লোবিনে কোন ধাতু উপস্থিত থাকে?
লোহা বা Iron (Fe)
১৩. ১০০ মিলি রক্তে স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কত?
১৪-১৬ গ্রাম (14-16 g/dL)
১৪. RBC-এর সংখ্যা কমে গেলে কোন রোগ হয়?
অ্যানিমিয়া (Anemia / রক্তাল্পতা)
১৫. RBC-এর সংখ্যা অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে কী বলে?
পলিসাইথিমিয়া (Polycythemia)
১৬. মানুষের দেহের প্রহরী বা সৈনিক কাকে বলা হয়?
শ্বেত রক্তকণিকা (WBC)
১৭. WBC-এর গড় আয়ু কত?
২ থেকে ১৫ দিন
১৮. রক্তে WBC-এর পরিমাণ অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে কী হয়?
লিউকিমিয়া (Leukemia বা ব্লাড ক্যান্সার)
১৯. রক্তে WBC-এর পরিমাণ কমে গেলে কী হয়?
লিউকোপেনিয়া (Leukopenia)
২০. আকারে সবচেয়ে বড় শ্বেত রক্তকণিকা কোনটি?
মনোসাইট (Monocyte)
২১. আকারে সবচেয়ে ছোট শ্বেত রক্তকণিকা কোনটি?
লিম্ফোসাইট (Lymphocyte)
২২. রক্তে কোন WBC-এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে?
নিউট্রোফিল (Neutrophil - প্রায় ৬৫%)
২৩. ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে জীবাণু ধ্বংস করে কারা?
নিউট্রোফিল ও মনোসাইট
২৪. অ্যালার্জি প্রতিরোধে সাহায্য করে কোন কণিকা?
ইওসিনোফিল (Eosinophil)
২৫. রক্তনালীর ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয় কে?
হেপারিন (Heparin)
২৬. হেপারিন নিঃসরণ করে কোন শ্বেত রক্তকণিকা?
বেসোফিল (Basophil)
২৭. দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি করে অনাক্রম্যতা গড়ে তোলে কে?
লিম্ফোসাইট (Lymphocyte)
২৮. HIV ভাইরাস প্রধানত কোন রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে?
T-লিম্ফোসাইট (Helper T-cells)
২৯. রক্ত তঞ্চনে (Blood Clotting) সাহায্য করে কে?
অণুচক্রিকা (Platelets)
৩০. ডেঙ্গু জ্বরে রক্তে কোন কণিকার পরিমাণ মারাত্মক কমে যায়?
অণুচক্রিকা (Platelets)
৩১. প্লাজমা থেকে ফাইব্রিনোজেন বাদ দিলে কী পড়ে থাকে?
সিরাম (Serum)
৩২. রক্ত তঞ্চনে সহায়ক ভিটামিন কোনটি?
ভিটামিন K
৩৩. রক্ত তঞ্চনে সহায়ক ধাতব আয়ন কোনটি?
ক্যালসিয়াম আয়ন (Ca²⁺)
৩৪. ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত জমাট না বাঁধার জন্য কী মেশানো হয়?
সোডিয়াম সাইট্রেট বা EDTA
৩৫. জোঁকের লালায় উপস্থিত অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্টের নাম কী?
হিরুডিন (Hirudin)
৩৬. মানুষের রক্তের গ্রুপ (ABO) কে আবিষ্কার করেন?
কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার (১৯০০)
৩৭. সার্বজনীন দাতা (Universal Donor) কোন গ্রুপকে বলে?
O নেগেটিভ (O-)
৩৮. সার্বজনীন গ্রহীতা (Universal Recipient) কোন গ্রুপ?
AB পজিটিভ (AB+)
৩৯. 'O' গ্রুপের রক্তে কোন অ্যান্টিজেন থাকে?
কোনো অ্যান্টিজেন থাকে না
৪০. 'AB' গ্রুপের রক্তে কোন অ্যান্টিবডি থাকে?
কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না
৪১. Rh ফ্যাক্টর কে আবিষ্কার করেন?
ল্যান্ডস্টেইনার এবং উইনার
৪২. Rh ফ্যাক্টর কোন প্রাণীর রক্ত থেকে আবিষ্কৃত হয়?
রিসাস (Rhesus) বানর
৪৩. পিতা Rh+ এবং মাতা Rh- হলে দ্বিতীয় সন্তানের কী রোগ হতে পারে?
এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস
৪৪. রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া কোন ভিটামিনের অভাবে হয়?
ভিটামিন B12 এবং ফোলিক অ্যাসিড (B9)
৪৫. ম্যালেরিয়া রোগে মূলত রক্তের কোন কণিকা ধ্বংস হয়?
লোহিত রক্তকণিকা (RBC)
৪৬. হিমোফিলিয়া (রক্ত জমাট না বাঁধা) কোন ধরনের রোগ?
বংশগত বা জেনেটিক রোগ (X-লিঙ্কড)
৪৭. কাস্তে-আকৃতির রক্তকণিকা (Sickle Cell) কোন রোগে দেখা যায়?
সিকল সেল অ্যানিমিয়া
৪৮. রক্তের লোহিত কণিকা মাপার যন্ত্রের নাম কী?
হিমোসাইটোমিটার (Hemocytometer)
৪৯. রক্তের চাপ (Blood Pressure) মাপার যন্ত্রের নাম কী?
স্ফিগমোম্যানোমিটার
৫০. স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ কত হওয়া উচিত?
১২০/৮০ mmHg