রক্ত (Blood)
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য সম্পূর্ণ স্টাডি মেটেরিয়াল
রক্ত প্রধানত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত: তরল অংশ যাকে রক্তরস বা প্লাজমা (Plasma - 55%) বলে এবং কঠিন অংশ যাকে রক্তকণিকা (Blood Corpuscles - 45%) বলে।
রক্তরস (Plasma - 55%)
- উপাদান: ৯১-৯২% জল এবং ৮-৯% কঠিন পদার্থ (প্রোটিন, গ্লুকোজ, লবণ)।
- প্লাজমা প্রোটিন: অ্যালবুমিন (অসমোটিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করে), গ্লোবিউলিন (অ্যান্টিবডি তৈরি করে), ফাইব্রিনোজেন এবং প্রথম্বিন (রক্ত তঞ্চনে সাহায্য করে)।
- সিরাম (Serum): রক্ত জমাট বাঁধার পর যে হালকা হলুদ তরল বেরিয়ে আসে। (সিরাম = প্লাজমা - ফাইব্রিনোজেন)। সিরামে রক্ত তঞ্চনের উপাদান থাকে না।
- কাজ: পুষ্টিদ্রব্য, হরমোন, উৎসেচক এবং রেচন পদার্থ পরিবহন করা।
রক্তকণিকা (Formed Elements - 45%)
- রক্তকণিকা তিন প্রকার: লোহিত রক্তকণিকা (RBC), শ্বেত রক্তকণিকা (WBC) এবং অণুচক্রিকা (Platelets)।
- হিমোপয়েসিস (Hemopoiesis): রক্তকণিকা সৃষ্টির প্রক্রিয়া। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি লাল অস্থিমজ্জায় (Red Bone Marrow) ঘটে।
- ভ্রূণ অবস্থায় রক্তকণিকা উৎপন্ন হয় যকৃৎ (Liver) এবং প্লীহা (Spleen) থেকে।
| বৈশিষ্ট্য | লোহিত রক্তকণিকা (RBC / Erythrocytes) | শ্বেত রক্তকণিকা (WBC / Leukocytes) | অণুচক্রিকা (Platelets / Thrombocytes) |
|---|---|---|---|
| আকৃতি | উভয়দিক অবতল (Biconcave), নিউক্লিয়াস বিহীন (স্তন্যপায়ী)। ব্যতিক্রম: উট ও লামার RBC তে নিউক্লিয়াস থাকে। | অনিয়মিত, নির্দিষ্ট আকার নেই। নিউক্লিয়াস যুক্ত। | গোলাকার বা ডিম্বাকার, নিউক্লিয়াস বিহীন। |
| স্বাভাবিক সংখ্যা | পুরুষে ৫-৫.৫ মিলিয়ন/mm³, মহিলায় ৪.৫-৫ মিলিয়ন/mm³ | ৪০০০ - ৮০০০ / mm³ | ১.৫ লক্ষ - ৩.৫ লক্ষ / mm³ |
| আয়ুষ্কাল | ১২০ দিন। | কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েক দিন (২-১৫ দিন)। | ৩ - ১০ দিন। |
| উৎপত্তিস্থল | লাল অস্থিমজ্জা (Red Bone Marrow)। | অস্থিমজ্জা, প্লীহা ও লিম্ফ নোড। | অস্থিমজ্জার মেগাক্যারিওসাইট (Megakaryocyte) কোষ থেকে। |
| ধ্বংসস্থান | প্লীহা (Spleen) - তাই প্লীহাকে RBC-এর গোরস্থান (Graveyard) এবং ব্লাড ব্যাঙ্ক বলা হয়। | রক্তেই ধ্বংস হয় এবং লিভার/প্লীহায় অপসারিত হয়। | প্লীহা (Spleen) এবং যকৃতে ধ্বংস হয়। |
| প্রধান কাজ | হিমোগ্লোবিনের মাধ্যমে কোষে O₂ পরিবহন এবং CO₂ অপসারণ। | ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে জীবাণু ধ্বংস ও ইমিউনিটি প্রদান। (দেহের প্রহরী) | রক্ত তঞ্চনে (Blood Clotting) সাহায্য করা। ডেঙ্গু জ্বরে এদের সংখ্যা মারাত্মক কমে যায়। |
গ্রানুলোসাইট (দানাদার)
- নিউট্রোফিল (Neutrophil): সবচেয়ে বেশি থাকে (৬০-৭০%)। ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে জীবাণু ভক্ষণ করে।
- ইওসিনোফিল (Eosinophil): অ্যালার্জি প্রতিরোধ করে এবং পরজীবী ধ্বংস করে।
- বেসোফিল (Basophil): সবচেয়ে কম থাকে (০.৫-১%)। হেপারিন (Heparin) নিঃসরণ করে যা রক্তনালীর ভেতর রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। এছাড়া হিস্টামিন নিঃসরণ করে।
অ্যাগ্রানুলোসাইট (অদানাদার)
- লিম্ফোসাইট (Lymphocyte): সবচেয়ে ছোট WBC। অ্যান্টিবডি তৈরি করে অনাক্রম্যতা (Immunity) প্রদান করে। HIV ভাইরাস T-লিম্ফোসাইটকে ধ্বংস করে দেয়।
- মনোসাইট (Monocyte): সবচেয়ে বড় WBC। এরাও ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে জীবাণু ধ্বংস করে (ম্যাক্রোফাজ হিসেবে কাজ করে)।
কেটে যাওয়া স্থানে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াকে তঞ্চন বলে। স্বাভাবিক সময়: ৩-৮ মিনিট।
- জরুরি ভিটামিন: ভিটামিন K
- জরুরি খনিজ/আয়ন: ক্যালসিয়াম (Ca²⁺)
- প্রধান প্লাজমা প্রোটিন: ফাইব্রিনোজেন ও প্রথম্বিন
- প্রক্রিয়া: থ্রম্বোপ্লাস্টিন + Ca²⁺ + প্রথম্বিন ➔ থ্রম্বিন।
থ্রম্বিন + ফাইব্রিনোজেন ➔ ফাইব্রিন (জ্বালকের মতো অংশ যা রক্তকণিকা আটকে দেয়)। - অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট (Anticoagulant): কৃত্রিম (ব্লাড ব্যাঙ্কে ব্যবহৃত) - সোডিয়াম সাইট্রেট, EDTA. প্রাকৃতিক - হেপারিন, হিরুডিন (জোঁকের লালায়)।
আবিষ্কারক: কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার (Karl Landsteiner - 1900)। রক্তের গ্রুপ নির্ধারিত হয় RBC-র গায়ে থাকা অ্যান্টিজেনের (A, B) ওপর ভিত্তি করে।
| গ্রুপ | অ্যান্টিজেন (RBC) | অ্যান্টিবডি (প্লাজমা) | কাকে দান করতে পারে? |
|---|---|---|---|
| A | A | Anti-B | A, AB |
| B | B | Anti-A | B, AB |
| AB | A এবং B | নেই | শুধুমাত্র AB (Universal Acceptor) |
| O | নেই | Anti-A এবং Anti-B | সবাইকে (Universal Donor) |
* O নেগেটিভ (O-) হলো প্রকৃত সার্বজনীন দাতা এবং AB পজিটিভ (AB+) প্রকৃত সার্বজনীন গ্রহীতা।
* Rh Factor: ল্যান্ডস্টেইনার ও উইনার রিসাস (Rhesus) বানরের রক্তে এটি আবিষ্কার করেন। Rh+ পুরুষ এবং Rh- মহিলার বিয়ে হলে দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে Erythroblastosis Fetalis নামক মারাত্মক রোগ হতে পারে।
যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার (UPSC, WBCS, CGL) আগে এই ৫০টি প্রশ্ন ঝালিয়ে নিন।